শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
Welcome To Our Website...
সংবাদ শিরোনাম :
মোংলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান; কাউখালীতে শিশুদের ঝরে পড়া রোধে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি; টিসিবি’র পণ্য বর্তমানে অসহায় মানুষের আস্থা; আত্রাইয়ে লেডিস ক্লাবের উদ্যোগে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ; বেগম খালেদা জিয়ার নামে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত; পিরোজপুরে সিও অফিসের মোড়ে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ: এসিল্যান্ডের নেতৃত্বে অভিযান; ঐক্যের মাধ্যমে ধানের শীষের বিজয়ের আহ্বান শেখ রেজাউল ইসলামের; দীর্ঘ নয় মাস ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত সওজ পিরোজপুর এর উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন; পিরোজপুরে হাড়কাঁপানো শীতে অসহায়দের পাশে জেলা প্রশাসন: রাতে ঘরে ঘরে পৌঁছাল কম্বল; রাজৈরে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের নির্বাচনী মতবিনিময় সভা; মোংলায় কোস্টগার্ড পশ্চিম জনের অভিযানে ১০০ কেজি হরিণের মাংস ও ৪ হাজার মিটার ফাঁদ জব্দ; দেশের মালিকানার ন্যায্য হিস্যা বুঝে নিতে চাইলে গণভোটে অংশ নিন; অসচ্ছল জেলেদের স্বাবলম্বী করতে বকনা বাছুর বিতরণ; হারানো ২২টি মোবাইল ও প্রতারণার টাকা উদ্ধার; আত্রাই থানা আকস্মিক পরিদর্শনে নওগাঁর পুলিশ সুপার; মোংলা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হলেন ইমান হোসেন রিপন; মোংলায় অপহৃত নারী উদ্ধার, অপহরণকারী আটক; বদলগাছিতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ; অত্যাচারীরা হারায়, কিন্তু অত্যাচারের ইতিহাস থেকে যায়; তুষখালীর কাটাখাল শুঁটকি পল্লীতে বিরল প্রজাতির মাছ নিধন বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ;

নওগাঁর গ্রাম-বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বাঁশঝাড়;

মোঃ ফিরোজ আহমেদ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:

বাঁশ বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ঐ, মাগো আমার শোলক বলা কাজলা দিদি কই। কবি যতন্দ্রি মোহর বাগচির আবেগ ভরা লেখা এ কবিতার বাঁশ বাগান এক সময় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী সম্পদ ছিল। এবং চাষ করা হতো ব্যবসায়ীক ভাবে। যা অযত্ন আর অবহেলায় গড়ে উঠত অল্প খরচে। সেই বড় বড় বাঁশ ঝাড় আজ আর চোখের সামনে নেই। দেখা যেতো গ্রামে গ্রামে যে হারে বাঁশ ঝাড় তা এখন আর দেখা যায় না চোখে।
এক সময় বাংলার গ্রামঞ্চলের প্রসুতির নাড়ি কাটার জন্য ব্যবহৃত হত ধাঁরালো বাঁশের চিকন চাচ। এবং বাঁশ ছাড়া মৃত্যুর দাফনও হয় না। সে জন্যই বলা হতো জন্ম থেকে মৃত্যু র্পযন্ত বাঁশের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীর্কায। এছাড়া বাড়ি ঘর নির্মাণ, সবব্জির মাচা তৈরী, বেড়া দেওয়া, চারা গাছের খাঁচাসহ কুুটির শিল্পে ব্যবহৃত এই বাঁশ। আগের দিনে বাঁশ ঝাড় ছিল অহংকারের বিষয়। কোন বংশের লোকের কত বিঘা বাঁশ আছে সেটাই ছলি র্গভের বিষয়। এখন আর তা খুঁজে পাওয়া যায় না।এবং আস্তে আস্তে বিলুপ্ত হতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বনজ সম্পদ বাঁশ বাগান। এক সময় এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে বাঁশ কেটে বিক্রি করা হতো হাটে বাজারে। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলের কুটির শিল্পের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা তা ক্রয় করে নিয়ে যেতো। কুটির শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে এই দেশে কাগজ তৈরীতেও ব্যাপক অবদান ছিল। এখন বাঁশের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য কুঠির শিল্পও। যে বাঁশ বন্যা,বাদলে,গরীবের বাড়ি তৈরীতে ও ধনী-গরীব সকলের মৃত্যুতে প্রধান সহযোগী ছিল বাঁশ। সেই বাঁশ অযত্নে আর অবহেলায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এই উপজলো থেকে।
আগের দিনে অনেক পরিবারই ব্যবসায়ীক ভাবে বাঁশ ঝাড়ের খড়কুটা,ছায় এনে বাঁশ ঝাড়ের রনাবনো করতেন। এখন আর সেই পুরনো ঐতিহ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। এবং নেই বাঁশ বাগান বা আর তৈরী হয় না বাঁশের সাঁকো। এবং কুটির শিল্পের সাথে জড়িতরা বাঁশের অভাবে উক্ত পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে। বাঁশ ঝাড়ের এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার আগ্রাহে আর নেই বাগান মালিকদের। এছাড়া বাঁশের বিভিন্ন কাহিনীও রয়েছে, যেমন বাঁশ দিয়ে তৈরী হতো বাঁশি,আর সেই বাঁশির মাতাল করা সুরে মুগ্ধ হতো ছোট বড় সব শ্রেণীর মানব সমাজ। পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লাঠি খেলাতে ব্যবহৃত হত বাঁশ দিয়েই তৈরী লাঠি।
বাগমারা উপজেলায় এক সময় প্রতিটি জমির মালিকদের ঐতিহ্যবাহী সম্পদ ছিল বাঁশ ঝাড়। আর আজ সেই বাঁশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বাঁশের ঝাড়গুলো নির্মূলভাবে কেটে বিনাশ করে সেখানে আম,জাম,লিচু,কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের বাগান তৈরী করা হয়েছে। এবং অবহেলায় বাঁশের ঝাড় গুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে এমন অবহেলা চলতে থাকলে মানুষ মরে যাওয়ার পর কবরে যে বাঁশের চালি বা খাপাচি দেওয়ার জন্য যে বাঁশ দরকার হয় তাও পাওয়া যাবে কিনা এ অশংকা করছেন বাগমারা উপজেলার কিছু সচেতন মানুষজন। তবে বাঁশ ঝাড় টিকিয়ে রাখতে সরকারী ভাবে বিশেষ ভূিমকা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন এখানকার র্সবস্তরের জনসাধারণ।
এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভা এলাকায় ৩ হাজার ৭ শ’ ৯০ হেক্টর জমিতে বাঁশ বাগান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :

Copyright © Frilix Group
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার